হালাল না হারাম খাওয়াচ্ছেন দিনাজপুর পৌর মেয়র

admin
Read Time4 Minute, 22 Second

আব্দুর রাজ্জাক:

দিনাজপুর পৌরসভা পশু মাংসের নামে হালাল নাকি হারাম খাওয়াচ্ছেন পৌরবাসীকে? এ প্রশ্নকে আমলে নিয়ে হারাম খাওয়া এড়াতে পশুর মাংস প্রায় খাওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। হালাল উপায়ে পশু জবাইয়ের জন্য কোন কসাইখানা তৈরীর উদ্যোগ নেন নি পৌর মেয়র।

দিনাজপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পশুর মাংস বাজারজাতকরণে শর্তে রয়েছে- পৌরসভা নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই করতে হবে, স্যানিটারী পরিদর্শক পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখবেন রোগাক্রান্ত রয়েছে কিনা, জবাই করার জন্য আনা পশু চোরাই কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখবেন এবং একজন মাওলানা যথানিয়মে পশু জবাই করছেন কিনা তা পরিদর্শন করবেন পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক।

কিন্তু পৌর এলাকায় পশু জবাই করার ব্যাপারে এসব নিয়ম কানুনের কোনটাই সঠিকভাবে প্রতিপালিত হয়না। কেননা পৌর এলাকায় পাক আমলে যে কসাইখানা ছিল দেশ স্বাধীন হবার পর সেটি পরিত্যক্ত হয়। তারপর কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এখন যত্রতত্র জবাই করা হয় গবাদী পশু। সে পশু রোগাক্রান্ত কিনা; চোরাই কিনা সেটা দেখভাল করার প্রয়োজনও বোধ করেন না পৌর মেয়র।

পৌরবাসী বলেন, যেসব গবাদী পশু জবাই করা হয় তা মাংস বিক্রেতা কসাইরা পাক পবিত্র অবস্থায় আল্লাহ তা’আলার নামে জবাই করেন কি না সে সন্দেহ পৌরবাসীদের প্রায় সকলের। আর যে পশু আল্লাহ তা’আলার নামে জবাই করা হয়নি তার মাংস হারাম। গবাদী পশুর মাংসের নামে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীকে যা খাওয়াচ্ছেন তা নিশ্চিত ভাবেই হালাল নয়। এসব মাংস জনস্বাস্থের জন্য হুমকীস্বরূপ। কেননা, যেসব পশু জবাই করা হচ্ছে সেগুলো রুগ্ন বা মৃত নয় একথা নিশ্চিতরূপে বলা যাবেনা। বরং বেশী লাভের আশায় কসাইরা রোগাক্রান্ত হাড় জিরজিরে পশু অল্প দামে কিনতে সচেষ্ট থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।

পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী বলেন, দিনাজপুর শহরের বালুবাড়িতে একটি কসাইখানা থাকলেও তা ব্যবহার অনুপোযোগী। মেয়র সাহেবকে অনেক বলার পরও তিনি কসাইখানাটি মেরামত বা নতুনভাবে তৈরীর উদ্যোগ নেন নি। তিনি বলেন, শহরের বাহাদুর বাজার, রামনগর, পুলহাট, উপশহর, মহারাজা মোড় এলাকায় ব্যাপকভাবে গরুর মাংস বিক্রি করেন কসাইয়েরা। তারা (কসাই) নিজ নিজ এলাকায় পশু জবাই করে থাকে। আবার শহর থেকে দুরে বিরল উপজেলার টেগরা এলাকা থেকে পশু জবাই করে মাংস এনে বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রি করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার মাংসবিক্রেতারা রোগাক্রান্ত না মরা গরু জবাই করে এনে মাংস বিক্রি করছে, তা বোঝার উপায় নেই।

দিনাজপুর পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কসাইখানা না থাকায় পশু হালাল বা হারামভাবে জবাইয়ের বিষয়ে তিনি সন্দিহান। তবে অতিশীঘ্রই একটি অত্যাধুনিক কসাইখানা পুনর্ভবা নদীর পাশে পৌরসভার নিজস্ব জায়গায় তৈরী করা হবে বলে জানান তিনি।

1 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

চিরিরবন্দরে তালাকপ্রাপ্তা মহিলা ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা

মোরশেদ উল আলম, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিয়ের প্রলোভনে এক তালাকপ্রাপ্তা মহিলা ২৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এবং বিয়ে না করার টালবাহানার অভিযোগে গত ৭ দিন পূর্বে থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও মামলা রুজু না হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। থানার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাইতাড়া ইউনিয়নের পূর্ব […]

Subscribe US Now