দিনাজপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘুড়ির কারিগর

admin
Read Time3 Minute, 55 Second

রফিক প্লাবন, দিনাজপুর প্রতিবেদক:
করোনাভাইরাস বাঙালিকে কয়েকটি প্রাণের উৎসব থেকে বঞ্চিত করলেও মজার খেলা ‘ঘুড়ি ওড়ানো’ থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি। বরং লকডাউন থাকায় শিশু ও যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের কর্মহীন লোকজনও এই ঘুড়ি ওড়ানোয় মেতে উঠছে। বিকেল হলেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যায় বিভিন্ন রং এর ঘুড়ি উড়ছে। এমন চিত্র এখন দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া মহল্লায়।

কেউ নিজ এলাকার ফাকা জায়গায়, কেউ নিজ বাড়ির ছাদ থেকে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। কেউ আবার অজানা কারো সাথে ঘুড়ি কাটাকাটির প্রতিযোগিতা করছে। আর এই ঘুড়ির চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এবং লকডাউনে ঠিকমত উপকরণ না মেলায় ঘুড়ি তৈরিতেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে কারিগরদের। দিনাজপুরে সপ্তাহখানিক আগে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। তখন একটি ঘুড়ি বিক্রি হতো ৫ টাকায়। পরে তা বেড়ে ৭ টাকা এবং বর্তমানে একটি ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

দিনাজপুর জেলায় লোকডাউন থাকায় শহরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা হঠাৎপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতেই ঘুড়ি তৈরি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন (কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন) রংবেরং নামে দোকানের সত্বাধিকারি মো. কাশেম। পেশায় তিনি একজন চিত্রশিল্পী হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার তেমন কাজ না থাকায় তিনি নিজ বাড়িতেই ঘুড়ি তৈরি করছেন। গতকাল তার বাড়িতে এমন চিত্র দেখা যায়।

তিনি জানান, ঘুড়ির চাহিদা এত বেশি যে, আমি ঘুড়ি তৈরি করে সামাল দিতে পারছি না। একের পর একজন এসে কেউ ৫টা, কেউ ১০ টা করে ঘুড়ি চাইছে। চাহিদা বাড়ায় ঘুড়ি তৈরিতে আমার সাথে যোগ দিয়েছে স্ত্রী-সন্তানও। তিনি বলেন, পাতলা কাগজের সাথে চিকন কঞ্চি লাগিয়ে সাধারণত ঘুড়ি তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন উপাদান ও নকশার ঘুড়ি রয়েছে। বর্তমানে সব কিছুর দাম বাড়ায় একটি ঘুড়ি বিক্রি করছি ১০ টাকায়। তিনি জানান, একটি ঘুড়ি তৈরি করতে তার সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট।

হঠাৎপাড়া এলাকার মো. রুবেল, বাসুনিয়াপট্টিস্থ চকবাজার এলাকার গোপাল জানান, ঘুড়ি ওড়ানোটা নেশা না হলেও বর্তমান করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে বেকার না ঘুরে ঘুড়ি উড়িয়ে সময় কাটাচ্ছি। বিকেলটা অনেক আনন্দের কেটে যাচ্ছে। পাশাপাশি আকাশে অজানা কারো সাথে ঘুড়ি লড়াই করছি। এটি এক অন্যরকম অনুভুতি।

প্রানঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাব কেটে একদিন আবার স্বাভাবিক হবে বাংলাদেশ, স্বাভাবিক হবে দিনাজপুরবাসী। আবার স্বাভাবিক ভাবে মনের আনন্দে মেতে উঠবে শিশু, যুবকরা এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

0 0
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

হুইপ ইকবালুর রহিমের খাদ্য সামগ্রী বিসিক শিল্প এলাকার কর্মহীন মানুষের মাঝে বিতরণ

আব্দুর রাজ্জাক :দিনাজপুর শহরের পুলহাট বিসিক শিল্প এলাকার কর্মহীন মানুষদের মাঝে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি এর খাদ্য সামগ্রী পৌছালো ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম রমজান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির সার্বিক সহযোগিতায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ২৬ এপ্রিল রবিবার দুপুরে উক্ত এলাকার অসহায় কর্মহীন […]

You May Like

Subscribe US Now