দিনাজপুরে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম ফুলাল, দিনাজপুর:

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জে ঘর-সংসার করার প্রলোভন দিয়ে অবুঝ অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়েকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছেন মেয়ের মা আফরোজা পারভীন।

আজ সোমবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ধনতলা (শাহাপাড়া) গ্রামের মো. জাহেদ’র স্ত্রী ও অপহৃত মেয়ের মা মোছা. আফরোজ পারভীন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার মেয়ে মোছা. ইসমেত জেরিন বয়স ১৭ বছর। সে চলতি ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। আমার মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে উত্তক্ত করতো ও তাকে ফুসলিয়ে এবং ভুল বুঝিয়ে ঘর-সংসার করার প্রলোভন দিয়ে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছিল বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক নাজমুল ইসলাম (৩৫)। এ বিষয়টি আমি জানতে পেরে নাজমুল ইসলামের পরিবারের লোকজনকে জানাই এবং আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ না করতে ও তাকে উত্তক্ত না করতে নিষেধ করি। কিন্তু নাজমুল ইসলাম আমার বাধা নিষেধ অমান্য করে আমার মেয়ের সাথে সম্পর্ক করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।

গত ১০-০৯-২০২০ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টায় আমার সেতাবগঞ্জ শহরে অবস্থিত স্কয়ার কোচিং সেন্টারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বের হলে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা নাজমুল ইসলাম ও তার সহযোগিরা আমার মেয়েকে রাস্তায় একা পেয়ে জোরপূর্বক অটোভ্যানে তুলে দিনাজপুরের দিকে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর নিকট এ খবর জানতে পেরে মেহেদী হাসান, ২নং ইশানিয়া ইউপি সদস্য রিয়াজুল ইসলাম, আটগাঁও ইউপি সদস্য মোঃ আহসান ও বরুয়া গ্রামের শুভকে সাথে নিয়ে আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে নাজমুলের বাড়ীতে গেলে নাজমুল ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে আমাদের হাতে না দিয়ে উল্টো আমাদেরকে বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তাদের বাড়ী হতে বের করে দেয়। আমার মেয়েকে আনতে পরবর্তিতে তাদের বাড়ীতে গেলে প্রাণনাশের ভয়ভীতি, শারিরিকভাবে লাঞ্চিত ও মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে বলে হুমকিও দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা পারভীন আরো বলেন, এ বিষয়টি বোচাগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে জানালে থানা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে মামলা করতে বলে। থানা পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী গত ১২-০৯-২০২০ তারিখ নাজমুল ইসলাম (৩৫) তার ভাই মোঃ রুবেল মিয়া (৩০), পিতা মোঃ মজিবর রহমান (৫৫), নাজমুলের মাতা মোছাঃ লায়লা বেগম (৫০) ও নাজমুলের দাদী মৃত ইয়াকুব আলীর স্ত্রী মোছা ঃ মর্জিনা বেগম (৭০) এই ৫ জনকে আসামী করে আমি বোচাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করি। মামলা নং-০৩, তারিখ-১২-০৯-২০২০ ইং, ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধিত/০৩) এর ৭/৩০। মামলা করার পর আসামী রুবেলকে (৩০) পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে সে আদালত থেকে জামিনে রেবিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, আসামী রুবেল জামিনে মুক্ত হয়ে আমার বাড়ীতে গিয়ে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নিলে তোমার মেয়েকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিবো। তোমরা কি করতে পারো দেখে নিবো। এ ঘটনার পর বিষয়টি অবহিত করে বোচাগঞ্জ থানায় আমি একটি জিডি করি। জিডি নং-৬৪৫, তারিখ-১৭-০৯-২০২০।

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ আমার মেয়েকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। বর্তমানে আমার মেয়ে কোথায় ও কিভাবে আছে তা জানি না। আসামীরা আমার মেয়েকে জোরপূর্বক আটকিয়ে রেখেছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে নাজমুল ও তার পরিবারের লোকজনের হাত থেকে মেয়েকে উদ্ধারে আইন শঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মেয়ের মা আফরোজা পারভীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *